দলে ত্যাগীরদের মূল্যায়ন ’ নীতিতে এগুচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপি

[১] [২] [৩]

[৪]

জিবি সময় অনলাইন ডেস্ক : [৫]২০২২ সালের মার্চ। সিলেটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো ‘প্রায় একদলীয়’। ক্ষমতাসী দলের দমন-পীড়নের শিকার ছিলো আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপি রাস্তায় নামলেই ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠতো আওয়ামী লীগ। জেলাজুড়ে অসংখ্য মামলা-হামলার শিকার বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন নাজেহাল। এই অবস্থায় ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল। গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিট পায় নতুন নেতৃত্ব।

ওইদিন বিকেলে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ত্যাগী নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ও শামীম আহমদকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এরপরই গতি আসে জেলা বিএনপির কার্যক্রমে। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি সিলেটে রাজপথ কাঁপাতে থাকে বিএনপিও। জেলার শীর্ষ নেতাদের ডাকে জান বাজি রেখে রাস্তায় নেমে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে থাকেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

কাউন্সিলের এক বছর পর ২০২৩ সালের ২০ মার্চ ঘোষণা করা হয় জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ১৫১ সদস্যের কমিটিকে নেতৃত্ব দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতারা। তাদের পাশে ছিলেন কমিটির বাকি সব সহযোদ্ধাও।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সিলেটে আওয়ামী লীগহীন মাঠে দলীয় কার্যক্রম বাধাহীনভাবে করছে জেলা বিএনপি। সর্বশেষ শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভা বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিটটির কার্যক্রম আরও বেগবান করতে সভায় বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে তৃণমূল সাংগঠনিক সফর ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। সভায় আলোচনা হয় জেলা কমিটির মেয়াদ নিয়েও। এ প্রসঙ্গে বেশিরভাগ নেতার বক্তব্য ছিলো- বর্তমান কমিটির মেয়াদ বর্ধিত করে জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙাভাব অব্যাহত রাখা।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর ‘কার্যনির্বাহী কমিটির সভা’ নামে দলীয় অভ্যন্তরীণ বড় কোনো আয়োজন করলো সিলেট জেলা বিএনপি। এতে কমিটির ১৫১ সদস্যের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলরা। সভায় মুক্তভাবে সবাই নিজের মতামত তুলে ধরেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এড. এমরান আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ ও সমর্থন শেষে দলের প্রয়াত নেতা, হাসিনাবিরোধী আন্দোলন এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং ছাত্র-আন্দোলনে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়।

জেলা বিএনপি সূত্র সিলেটভিউ-কে জানায়- সভায় মতামত দিতে গিয়ে বক্তারা বলেছেন, দলকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন বক্তারা।

উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব নেতা বক্তব্য দেয়ার সময় বর্তমান জেলা কমিটিকে ধন্যবাদ জানান এবং জেলা বিএনপি’র কার্যক্রমের ব্যাপক প্রশংসা করেন।

সভায় অনেকেই সিলেটের কোয়ারি এলাকার নেতারা বালু ও পাথর লুটপাট এবং সীমান্তের চোরাচালানকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, একটি সফল সভা সম্পন্ন করতে পেরে বেশ খুশি জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ বিষয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী  বলেন- কমিটি ১৫১ সদস্যের প্রায় সবাই সভায় উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বক্তব্য দিয়েছেন অর্ধশতাধিক নেতা। এছাড়া অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারাও বক্তব্য দিয়েছেন। সবার কথা গুরুত্ব সহকারে শোনা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে তদের বক্তব্যে। সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবো।

তিনি বলেন- দলের তৃণমূলে আরও গতি বাড়াতে খুব শিগগিরই জেলা বিএনপি গঠিত টিম সফরে বের হবেন।

এসময় উপজেলা, পৌর, কলেজ ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি দেশের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। সেগুলো নেতাকর্মীরা যাতে পূরণ করতে কাজ চালিয়ে যান সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে যারা জড়িত; প্রমাণ পাওয়ামাত্র তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীর গতিবিধি লক্ষ্য করেন। ইতোমধ্যে বিশৃঙ্খলাকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পর্যালোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন- দেশের স্বার্থবিরোধী অপশক্তি প্রতিরোধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং সেভাবেই জেলা বিএনপির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।সিলেটভিউ

 (জিবি সময়/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে জিবি সময় লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

জিবি সময় ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]