গোলাপগঞ্জে ডাকাত আতঙ্কে, পাহারায় রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী

[১] [২] [৩]

[৪]

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে : [৫] সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার নিমাদল, ফুলবাড়ি, ঘোগারকুল, রণকেলী, ঢাকাদক্ষিণসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা খবরে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে ভয় ও উদ্বেগ। সাধারণ মানুষ দাবি তুলেছেন, প্রশাসনকে শুধু আশ্বাস দিলেই হবে না, বরং নিয়মিত টহল, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। নাহলে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক গ্রামেই স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতের বেলা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জন সাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন নানান মহলে। কেউ কেউ মনে দেশের আইনশৃঙ্খলা হযবরল আবার কেউ মনে করেছেন এক গোষ্ঠি গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যাহত প্রমাণ করতে এ কাজ করছে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে বৃদ্ধ থেকে য়ুবকরা দল বেঁধে বাঁশ, লাঠি ও দড়ি হাতে পাহারা দিচ্ছেন। আবার লক্ষ্যকরা গেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের হত্যা মামলার আসামীরা রয়েছে রাস্তায়। অপরিচিত কাউকে পেলে আটকে তাকে নিশ্চিত করতে করছেন জিজ্ঞাসাবাদ।

জিজ্ঞাসার সময় মঙ্গলবার দিবাগত (৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে উপজেলার নিমাদল মোকামবাজারে সন্দেহভাজন তিনজন মোটরসাইকেলে করে ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে জমির উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলার বইটিকর এলাকার ফখরুল ইসলাম ও দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারের জয়নাল কে আটক করা হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে উত্তেজিত জনতা। পরবর্তীতে ভোররাত পৌঁণে ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে এবং সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

গতকাল গভীররাতে উপজেলার ঢাকাদক্ষিন ইউনিয়নে রায়গড় ও নগর গ্রামের কয়েকটি মসজিদ থেকে ডাকাত ঢুকছে বলে মাইকিং করে সর্তক করার সাথে সাথে রাস্তায় নেমে আসে হাজারোধিক মানুষ। এসময় নিজেদের সোস্যাল মিডিয়া ফেবু থেকে এসব লাইভ করার সাথে সাথে পাশাপাশি অন্যান্য গ্রামের লোক ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এসময় এসআই সিরাজের নেতৃত্বে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার টহলরত একদল পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্ঠা করে। সাধারণ জনগনের ভীড়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহতস্বজনদের করা হত্যা মামলার আসামীদের দেখা যায়। তাদের হাতে রয়েছে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি।

এলাকার সুশীল সমাজ মনে করছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের মামলার আসামীরা এসময় বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। আতঙ্ক ও গুজব ছড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কিছু মানুষ নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে, যা নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকতে হবে ।

গ্রামবাসী জানান, পুলিশ মাঝেমধ্যে টহল দিলেও আতঙ্ক এতটাই বেশি যে, আমরা নিজেরাই সংগঠিতভাবে পাহারা না দিলে নিরাপদ মনে করি না। মাইকে ঘোষনা প্রসঙ্গেঁ বলেন, কোনো অচেনা লোক দেখা গেলেই মসজিদের মাইকে ঘোষণার কারণে হয়ত ‘গ্রামের সবাই সতর্ক হবেন, কারন এদর মধ্যেও ডাকাত থাকতে পারে।’

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মুসলেহ উদ্দিন বলেন, ডাকাতির ঘটনা যতটা না ঘটছে, তার চেয়ে বেশি গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গোলাপগঞ্জে পুলিশের ১১টি টিম রাতভর টহল দিচ্ছে। এছাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিলালপুর, রানাপিং ও ঢাকাদক্ষিণ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অপরাধীরা ঢুকতে না পারে। তিনি সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য এবং সন্দেহজনক কিছু ঘটলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।

 (জিবি সময়/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে জিবি সময় লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

জিবি সময় ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]