‘মঞ্চ ৭১’র অনুষ্ঠানে উত্তেজনা, লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন আটক

[১] [২] [৩]

[৪]

দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]মঞ্চ ’৭১ নামে একটি সংগঠনের গোলটেবিল অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দেয়া একদল লোকের হামলায়। এ সময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ ১৫ জনকে হেনস্তা করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা। পরে লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম পান্নাসহ ৬ জনকে ডিবি কার্যালয়ে এবং ৯ জনকে শাহবাগ থানা হেফাজতে নেয়া হয়। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)তে এ ঘটনা ঘটে। ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল ‘মঞ্চ-৭১’। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নাম লেখা ছিল ব্যানারে। কিন্তু তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। তার দল গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানের তিনি দাওয়াত গ্রহণ করেননি। সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল না। মানবজমিন-এর হাতে আসা একটি ছবিতে দেখা যায় আয়োজকদের একজন ড. কামাল হোসেনকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান, মঞ্চ-৭১’র সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ ক’জন। বেলা ১১টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত-শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে। শেখ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরেই মিছিল নিয়ে একদল ব্যক্তি ডিআরইউ মিলনায়তনে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ের যোদ্ধারা এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে আলোচনায় অংশ নেয়াদের অবরুদ্ধ করে হেনস্থা করেন। ঘটনার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে কয়েকজন নানা কথা বলছেন। তাকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করছেন। এ সময় লতিফ সিদ্দিকী চুপ করে ছিলেন। অন্যদিকে অধ্যাপক হাফিজুর রহমানকে ঘিরে কয়েকজনকে উচ্চবাক্য বিনিময় করতে দেখা যায়। এ সময় হাফিজুর রহমান তার গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জবাবে এক ব্যক্তি বলতে থাকেন আপনাদের কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি। আপনাদের গায়ে হাত দিলে কেউ সুস্থভাবে যেতে পারতেন না। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের এভাবে হেনস্থা চলার মধ্যেই খবর দেয়া হয় পুলিশকে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় প্রতিবাদকারীরা পুলিশকে লতিফ সিদ্দিকী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আটক করার আহ্বান জানান। পুলিশ লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জনকে তুলে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি জানতাম না এখানে সমস্যা হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েই এসেছিলাম। গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আল আমিন রাসেল নামের একজন বলেন, আমরা জুলাইযোদ্ধা। এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। জুলাইযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে এমন কিছু আমরা মেনে নেবো না।

পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর নেতা শামীম হোসাইন বলেন, একটি গোষ্ঠী একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি করে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, একাত্তর আমাদের ভিত্তি এবং চব্বিশ আমাদের মুক্তি। এখানে যারা জড়ো হয়েছেন, তারা সবাই চব্বিশের খুনের সঙ্গে জড়িত। অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও আছে। আমরা আইন হাতে তুলে না নিয়ে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মনসুর বলেন, এ ঘটনায় ৯ জন শাহবাগ থানায় রয়েছেন। তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এরা শ্রোতা হিসেবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসেছিলেন। এ ছাড়া লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক পান্নাসহ ৬ জনকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন সে আলোকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এদিকে রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটককৃতদের ছাড়া হয়নি।

ডিআরইউ’র নিন্দা ও প্রতিবাদ: এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি গোলটেবিল বৈঠকে কতিপয় বহিরাগতদের হামলাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একদল ব্যক্তি নিজেদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তাদেরকে নিবৃত্ত করতে গেলে ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মান্নান মারুফ, সদস্য আসিফ শওকত কল্লোল, সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদসহ কয়েকজনকে নাজেহাল করা হয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডিআরইউ।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সবার জন্য উন্মুক্ত। সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। এখানে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এই অনুষ্ঠানটি ঘিরে কতিপয় লোক গতকালই (বুধবার) ফেসবুকে হুমকি দিয়ে প্রচারণা চালায়। এর প্রেক্ষিতে শাহবাগ থানাকে অবহিত করার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত হওয়ায় হঠাৎ করেই একদল লোক অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ এবং সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর পুলিশকে অবহিত করার পর তারা এসে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজনকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিআরইউতে অনুষ্ঠান চলাকালে এ ধরনের ঘটনা খুবই ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

ডিআরইউ’র বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের সময়েও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সকলের কথা বলার সুযোগ ছিল। গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের বাধার মুখেও আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া নাহিদ, সারজিস ও হাসনাতরা এখানে কথা বলেছেন। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডিআরইউতে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবার কথা বলার সুযোগ ছিল। কখনো ডিআরইউতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কারও হস্তক্ষেপ ছিল না। তাই আগামী দিনে কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে ডিআরইউ তা প্রতিহত করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 (জনতারদেশ/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]