দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]টাঙ্গাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)-এর বাসা ‘সোনার বাংলা’য় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ১টার দিকে হামলা চালানো হয়। এদিকে, বাসাইলে কাদের সিদ্দিকীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও ছাত্র সমাবেশের একইস্থানে পৃথক সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
হামলার ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার জানান, রাতে স্যার (কাদের সিদ্দিকী) দ্বিতীয় তলায় ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মই দিয়ে বাসার গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভির আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করছে। শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ১৪৪ ধারা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। বাসাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের ৫০০ গজ পরিসীমার মধ্যে সকল প্রকার সমাবেশ, স্লোগান, মিছিল, শোভাযাত্রা, পিকেটিং বন্ধ ছিল। সকাল থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীও তৎপর ছিল। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় চেকপোস্ট। সরজমিন দেখা যায়, শহর জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বাসাইলের সকল প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে তল্লাশি চেকপোস্ট। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকলিমা বেগমের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। রোববার বিকাল ৩টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে একই সময়ে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও ছাত্র সমাজের ব্যানারে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। জানা গেছে, পহেলা সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল লিখিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বাসাইল থানার ওসির কাছেও অনুলিপি দেন। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের।
এদিকে, ছাত্র সমাজের ব্যানারে একই স্থানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ৫ই সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করেছেন ছাত্র নেতৃবৃন্দের পক্ষে রনি মিয়া নামের এক ব্যক্তি। পৃথক দু’টি সমাবেশের আয়োজকরা পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে। এ ব্যাপারে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, একইস্থানে কাদেরিয়া বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও ছাত্র সমাজ সমাবেশ আহ্বান করে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ওই স্থানে কেউ সভা ও সমাবেশ করতে পারবে না। যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কাদের সিদ্দিকীর সংবাদ সম্মেলন: দুপুরে শহরে নিজ বাসভবন সোনার বাংলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছি না। এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। প্রায় ২৬ বছর আগে আওয়ামী লীগ ছেড়ে নিজেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রতিষ্ঠা করেছি। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের জনগণকে ভালোবাসি ও সম্মান করি।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর ৩২-এর মতো আমার বাসা ভেঙে যদি দেশে শান্তি আসে তাহলে আমার বাসা ভাঙার দাবি করছি। এ ঘটনায় আমি কোনো দল বা নেতাকর্মীকে দোষারোপ করছি না। তবে এ ঘটনায় মামলা করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, হাসিনা সরকার যদি ফ্যাসিস্ট হয় তাহলে দেশে এখন যা চলছে তা কোন মাপের ফ্যাসিস্ট তা নির্ণয় করতে পারছি না। দেশের একমাত্র বেসামরিক বীর উত্তমের বাড়ি যখন সরকার নিরাপত্তা দিতে পারে না তখন বুঝতে হবে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ কোথায়? এসব কর্মকাণ্ড দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তার ছোট ভাই শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকীসহ মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
(জনতারদেশ/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]
