সিলেটে হেফাজতে আসামির মৃত্যু, ‘আত্মহত্যা’ বলছে র‌্যাব

[১] [২] [৩]

[৪]

দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]সিলেট সদরে র‌্যাব হেফাজতে হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে; যিনি বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় কম্বল পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে দাবি পুলিশের এই ইউনিটের।

রোববার সকালে সদর উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার র‍্যাব-৯-এর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বাহিনীটির মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মৃত মো. তানভীর চৌধুরী (২৬) গাজীপুরের কাশিমপুর থানার সারদাগঞ্জ গ্রামের বাবুল চৌধুরীর ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহাগ বলেন, “বৃহস্পতিবার নওগাঁ সদর উপজেলার কাঠাতলীতে তারভীর তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে সিলেটে আসেন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শনিবার জৈন্তাপুর উপজেলার চৈলাখেল নিজপাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

“রোববার সকালের দিকে তানভীর আত্মহত্যা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারের পর দেওয়া কম্বল গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তানভীর।”

পরে তানভীরের স্বজন, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহাগ।

নওগাঁ সদর থানায় তানভীরের বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলার বরাতে র‌্যাব জানায়, নওগাঁ সদর উপজেলার শালুকা সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জুথি খাতুন (২২) তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

এর মধ্যে শ্রীপুরে তানভীরের দোকানে কাপড় কিনতে গিয়ে তার সঙ্গে জুথির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জুথি তার প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে তানভীরকে বিয়ে করে শ্রীপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের পরে জুথি জানতে পারেন, তানভীরের আগের ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

এ নিয়ে তানভীরের সঙ্গে জুথির কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে কথা বললে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তানভীর। এক পর্যায়ে জুথিকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন তানভীর। সেখান থেকে ফিরে নওগাঁয় বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন জুথি। পরে নওগাঁ আদালতে তানভীরের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন জুথি।

র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে জুথি তার মাকে নিয়ে নওগাঁ আদালতে যাওয়ার পথে তানভীর ও তার সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে মামলা তুলে নিতে বলেন। রাজি না হলে তানভীর চাকু দিয়ে জুথির পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে প্রাইভেট কারে করে পালিয়ে যান।

এ সময় আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জুথিকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরে জুথির মা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন বলে জানায় র‌্যাব।

 (জনতারদেশ/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]