বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ

[১] [২] [৩]

[৪]

দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]মেঝেতে ব্যবহৃত টিস্যু, স্যালাইনের পরিত্যক্ত প্যাকেট, ব্যান্ডেজ, তুলার ছড়াছড়ি। দেয়ালে কফ, থুতু ও পানের পিকের ছোপ। শৌচাগারগুলো নোংরা। শয্যার চাদরগুলোও অপরিচ্ছন্ন। উড়ছে মশা-মাছি- এমন চিত্র বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় একসময় জরুরি প্রসূতিসেবা (মা ও শিশু) ও স্বাস্থ্যসেবায় জাতীয় পুরস্কার পাওয়া বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এখন এমন পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর রোগীর সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে। কোনো কারণে হাসপাতালের পরিবেশ দুষিত হলে রোগীর শ্বাসতন্ত্র ও কিডনি আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া যক্ষ্মা, কলেরা, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি খুবই জরুরি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৫০–২০০ এবং জরুরি বিভাগে ১০০–১৫০ রোগী চিকিৎসা নেন। এছাড়া ভর্তি থাকেন গড়ে ১৫–২০ জন। রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০–৭০০ মানুষের ভিড় হয় হাসপাতালে। ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে ১৪টি শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। দিনে দুবার পরিষ্কারের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে হচ্ছে না—অভিযোগ রোগীদের। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দোতলার পুরুষ ওয়ার্ডে টয়লেট ও গোসলখানার মেঝেতে জমে আছে নোংরা পানি। ভাঙা সিটকিনির বদলে দরজায় বাঁধা নাইলনের দড়ি। ট্যাপসহ স্যানিটারি উপকরণ নষ্ট। দুর্গন্ধে টয়লেটে ঢুকতেই বমির ভাব আসে।

আজিম উদ্দিন নামের এক রোগী বলেন, “গোসলের জন্য বালতি পর্যন্ত নেই। টয়লেটে ঢোকা যায় না।”

আরেক রোগী সামছুল হক বলেন, “এত নোংরা বাথরুম আগে কখনো দেখিনি।”

টয়লেটের পাশেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে ব্যবহৃত স্যালাইনের প্যাকেট। পুরুষ ও নারী—দুই ওয়ার্ডেই অধিকাংশ বিছানার চাদর নোংরা। নারী ওয়ার্ডের টয়লেটে পানির ব্যবস্থা থাকলেও দুর্গন্ধ তীব্র। কয়েকজন রোগীকে নাক চেপে টয়লেটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কেবিনের তিনটি টয়লেটেও ফ্ল্যাশ কাজ করে না, কমোডে জমে থাকে ময়লা।

কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, “টয়লেট ব্যবহার করতে হলে আগে নিজেই বালতি দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক রোগীর মন্তব্য, “এটা হাসপাতাল নাকি ভাগাড়—বোঝা মুশকিল।”

নারী ওয়ার্ডের রোগী রাবিয়া বেগম বলেন, “রোগ সারাতে এসে এই নোংরা পরিবেশে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় লাগে।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি ভালো সেবা দিতে। তবে টয়লেটগুলোর এমন অবস্থা কেন হচ্ছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

তিনি রোগী ও স্বজনদের অসচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন।

 (জনতারদেশ/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]