হাসপাতালের বিছানায় মা, ফিরলো না সন্তান

[১] [২] [৩]

[৪]

দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]মুখের ভাষা প্রায় হারিয়েই গেছে। যে সন্তানদের বড় করেছেন পরম মমতায়, তাদের কাছে তিনি এখন বোঝা। তাই শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকেন, কখনও নীরবে ভেজান দুই চোখ।

তিন সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডের হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন মিসেস ফাহমিদা।

মাথার পাশে পালস মনিটরের শব্দ, ঝরে পড়া স্যালাইনের ফোঁটা-সবকিছুই যেন জীবনের সাথে লড়াইয়ের সাক্ষী। ডাকলে তেমন সাড়া দেন না। অভিভাবক না থাকায় তাঁকে নিয়ে চিন্তায় আছেন চিকিৎসক-সেবিকারাও।
তাঁরা জানান, হাসপাতালে ভর্তির তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজারের বাসিন্দা শফিকুল আজাদ চৌধুরীর স্ত্রী ৪৫ বছরের এই নারীকে ১৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সঙ্গে ছিলেন তাঁর সন্তানরা। রোগীর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় তার ক্রমাগত মনিটরিংয়ের প্রয়োজনে এইচডিইউতে নেওয়া হয়। এখানে প্রতিনিয়ত রোগীর রক্তচাপ, পালস, রক্তে লবণ, অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা, হৃদযন্ত্রের মনিটরিং, প্রস্রাব ও স্যালাইনের পরিমাণ দেখা হচ্ছে।
নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডা. জিসান বলেন, ব্রেন স্ট্রোক করা ওই রোগী আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থ হলেও কাছে পাচ্ছেন না প্রিয়জনদের।

মিসেস ফাহমিদা’র দেখভালকারী ‘অজ্ঞাত রোগীর বন্ধু’ সাইফুল ইসলাম নেসার বাংলানিউজকে জানান, তাঁর চিকিৎসায় যে ওষুধগুলো হাসপাতালে সরবরাহ নেই সেগুলো রোগী কল্যাণ সমিতি এবং ‘অজ্ঞাত রোগীর মেডিসিন কর্নার’ থেকে এনে দিচ্ছি। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে বিশেষ রঙের পোশাক। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ছেলে সন্তান কয়েকদিন থেকে চলে গেছে। এরপর কন্যা এলেও বেশিদিন থাকেননি। সাদা চাদরের ওপর নিস্তব্ধ শরীর, পাশে কোনো আপনজন নেই।

নেই সন্তানের হাত, নেই আপনজনের সান্ত্বনা, নেই পরিবারের অপেক্ষা।
তিনি আরও জানান, ক্ষণিকের আলাপে জেনেছি-মিসেস ফাহমিদা একসময় লাখ টাকা বেতনে চাকরি করতেন কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (কোডেক)। যেদিন মাকে নিয়ে তার ছেলেটা এসেছিল, সাথে ছিল আপন বোনও। ডাক্তারদের সাথে কথা বলা, কাগজপত্রে সই, উদ্বিগ্ন মুখভঙ্গি-সবই ছিল। কিন্তু দিন গড়াতে গড়াতে তারা আর এলো না। ফোন প্রায়ই বন্ধ রাখে, দায়িত্ব নেই। যেন হাসপাতালের ওই বেডেই মায়ের সাথে সম্পর্কটাও ফেলে রেখে গেছে তারা।

সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা একজন মায়ের শরীরটা এখন পড়ে আছে হাসপাতালের বেডে। পরিবার-যাদের জন্য সারাজীবন পরিশ্রম, তারাই পাশে নেই। এক সপ্তাহের চেষ্টায় ছেলেকে ফোনে পাওয়া গেলেও সে জানালো-চিকিৎসার খরচ চালাতে পারবে না। অসুস্থ হলে কি একজন মা এতটাই বোঝা হয়ে যায়? স্বার্থ ফুরালেই কি সম্পর্কও ফুরিয়ে যায়? তিনি এখনো বেঁচে আছেন, শ্বাস নিচ্ছেন-বলেন সাইফুল ইসলাম নেসার।

দায়িত্ববোধ থেকে মিসেস ফাহমিদা’র সেবা করে যাচ্ছেন ওয়ার্ড বয়-নার্সরা। কিন্তু সন্তানের হাতের স্পর্শের মতো উষ্ণতা কি আর কোথাও আছে? তারা জানালেন,‘হয়তো এই মা ভাবছেন-আমার ছেলে আসবে, মেয়েটা আসবে, আমাকে বাড়ি নিয়ে যাবে’। এক অসহায় মায়ের চোখের কোণে জমে থাকা অপেক্ষার অশ্রু প্রতিদিন একটু একটু করে এভাবেই শুকিয়ে যায়।

 (জনতারদেশ/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]