হবিগঞ্জে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট

[১] [২] [৩]

[৪]

দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক : [৫]পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। জেলার শহর থেকে শুরু করে উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার সরবরাহ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাবেচা ও দরদাম চলছে।

হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ, মাধবপুর, চুনারুঘাট, বানিয়াচং, লাখাই ও আজমিরীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন হাটে স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে আসছেন। বিশেষ করে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা এবার বেশি দেখা যাচ্ছে। বড় আকারের ষাঁড়গুলো ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও বড় গরুর দাম উঠছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ছাগল ও ভেড়ার বাজারেও রয়েছে ক্রেতা সমাগম। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকায় সামনে আরো বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার খামারি কাজল মিয়া জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি গরু লালন-পালন করেছেন। পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচও বেড়েছে। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু বড় করেছি। ভালো দাম পেলে পরিবারের খরচ চালাতে সুবিধা হবে। এখন পর্যন্ত বাজার মোটামুটি ভালো।”

চুনারুঘাট থেকে আসা ব্যবসায়ী সালেক মিয়া বলেন, “এবার হাটে দেশি গরুর চাহিদা বেশি। মানুষ স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিকভাবে পালন করা পশুর দিকে ঝুঁকছে। আশা করছি, শেষ সময়ে আরো ভালো বেচাকেনা হবে।”
ক্রেতারা বলছেন, প্রথম দিকে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তাই অনেকে এখন হাট ঘুরে পশু দেখছেন, আবার কেউ কেউ আগেভাগে কোরবানির পশু কিনে নিচ্ছেন।

হবিগঞ্জ জেলা শহরের ক্রেতা নুরুল হক কবির বলেন, “এবার গরুর দাম তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। তবে হাটে প্রচুর পশু এসেছে। দরদাম করে ভালো পশু কেনার চেষ্টা করছি।”

পশুর হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংক প্রতিনিধি ও বিশেষ টিম কাজ করছে। একইসঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। স্থানীয় খামারিদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাটগুলোতে অসুস্থ পশু বিক্রি রোধে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও তদারকি করছে।

 (জনতারদেশ/রুপমআহমেদ// )

খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন [৬]

ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন [৭]

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন [৫]

[১] [২] [৩]