ধলাই সেতু রক্ষা করবে কে?
আব্দুল জলিল :সিলেটের দ্বিতীয় দীর্ঘতম সেতু কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপর নির্মিত হয়। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম.সাইফুর রহমান ২০০৬ সালে উদ্বোধন করেন সেতুটি। পূর্ব ধলাই এর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হচ্ছে এই সেতু। সম্প্রতি এই সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন করে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সেতু রক্ষায় করো কার্যকর কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায় নি। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ অভিযান করলেও বালু উত্তোলন বন্ধে তা কার্যকর হচ্ছে না।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দু-একটি মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হলেও তাতে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এলাকার সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও তার কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং আগের চেয়ে দিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বালু উত্তোলন।
সম্প্রতি সেতুটির নিচ ও পিলারের গোড়া থেকে বালু উত্তোলন করায় ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। গাড়ি যাতায়াতের সময় ভাইব্রেশন করে সেতুটি। এমতাবস্থায় হুমকির মুখে পড়েছে সেতুর স্থায়ীত্বকাল। সেতুটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হবে পূর্ব পাড়ের ৫০ হাজার মানুষ। এমতাবস্থায় সেতুর স্থায়ীত্ব রক্ষায় দেখা দিয়েছে সংশয়। প্রশাসন কার্যকর প্রদক্ষেপ না নিলে ধ্বংস হয়ে যাবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা।
ধলাই ব্রিজের নিচ থেকে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধের জন্য ৫ নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন রুস্তুমপুর গ্রামের মোঃ ফয়জুল হক।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম এই সেতুটির নিচ হইতে বালু, পাথর উত্তোলন ফলে সেতু সহ বিজিবি ক্যাম্প ও আশপাশের স্থাপনা সমূহ ভাঙ্গনের হুমকীর মুখে পড়িয়াছে। পূর্ব ইসলামপুরের বালু, পাথর খেকোরা রাতে ও দিনের বেলায় জোরপূর্বক ব্রিজের পিলারের গোড়া ও নদীর পাড় হইতে বারকী নৌকা দ্বারা বালু, পাথর উত্তোলন করিতেছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ২জন ওয়ার্ড মেম্বারের সীল স্বাক্ষর সহ অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন ধলাই সেতুর নিচ থেকে কলাবাড়ী গ্রামের বিলাল, আনোয়ার, জসিম, জামাল, আলামিন, ইয়ামিন, লিক্সন, রিয়াজ, ডিবল, জহুর, দুলু, ফরিদ, মাসুক মিয়া, আব্দুল্লাহ, নুর মোহাম্মদ, কনাই, মন্নান, হাসিম, সেলিম সহ আরো অনেকেই বালু পাথর লুটপাট করছে।
অভিযোগ দায়েরকারী মো. ফয়জুল হক জানান, অভিযোগের প্রায় ১মাস অতিবাহিত হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমার দায়ের করা অভিযোগের কোন অগ্রগতি সম্পর্কে ইউএনও বা ওসি আমাকে কিছুই জানাননি। গত ২দিন আগে ধলাই সেতুর নিচে মোবাইল কোর্টের অভিযান হয়েছে। তাছাড়া আর কোন প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, প্রতিদিন ধলাই নদীতে আমাদের অভিযান চলছে। স্পটে যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনককেই জেল জরিমানা দেওয়া হয়েছে। ধলাই সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানা জানান, আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তাছাড়া কেউ নাম সহ অভিযোগ করলে সেটা থানা পুলিশের কাছে আমরা পাঠিয়ে দেই।
(জিবি সময়/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে জিবি সময় লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন






