নির্বাচনে শত ষড়যন্ত্রেও জনগণ সুস্থ ধারার প্রতিফলন ঘটিয়েছে: ওয়ার্কার্স পার্টি
দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শত প্রতিকুলতা ষড়যন্ত্রের মধ্যে জনগণ স্বস্তি ও সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিক্রিয়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিটি এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে নেতাদের বলেন, একটি অগণতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী-মৌলবাদী-মবতান্ত্রিক অস্থির অন্তর্বর্তী সরকারের অপশাসন থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা ও শত সীমাবদ্ধতা, একতরফা কৌশলের নির্বাচনে জনগণ যে রায় প্রদান করেছে তা জনগণের স্বস্তির ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা সৃষ্টির মনোভাবকেই প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন, অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, সাম্রাজ্যবাদী দালাল শক্তির বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে চরম দক্ষিণপন্থি মৌলবাদী শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর নীলনকশা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে মিথ্যা মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শত শত গায়েবি মামলা দিয়ে রাজনৈতিক শূন্যতার চেষ্টা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্ন্তভুক্ত না করে একতরফা নির্বাচন করার অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেয়নি।
নেতারা আরও বলেন, সব দলের অংশগ্রহণমূলক অর্ন্তভুক্তি নির্বাচনের জনদাবি নিয়ে জনগণ রাজনীতিক সংকটের মীমাংসা দাবি করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার ও তার প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূস জনদাবি ও আন্তর্জাতিক শক্তির চাপে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের এই নিরঙ্কুশ রায়ে উপরোক্ত সংকট মোকাবিলায় ব্যালটে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিএনপির এই বিজয়কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি অভিনন্দন জানাচ্ছে।
জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আপাত সংকট মোকাবিলায় একটি ধাপ অতিক্রম করলেও আরও বড় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক বিপদ বাড়বে।
প্রথমত সব দলের অন্তভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ না থাকার ফলে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঘটেছে। পার্লামেন্টে তারা প্রধান বিরোধীদল হওয়ার ফলের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাতাবরণ আরও বাড়বে।
নির্বাচনে কালো টাকা সাম্প্রদায়িকা নৃশংসতার ফলে গণতান্ত্রিক চেতনার সংকটও বাড়বে।
দ্বিতীয়ত গত ১৮ মাসের অন্তর্বতী সরকার অবৈধভাবে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে তুষ্ট করতে অপ্রকাশযোগ্য বাণিজ্য চুক্তি, সামরিক চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে, দেশের সাধারণ জনগণের জীবন জীবিকা, আয় বৈষম্য ইতোমধ্যে সংকটে নিপতিত হয়েছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠী এই অস্থিরতার সুযোগ নেবে। দেশ পরিচালনায় নতুন সরকার হিসেবে বিএনপি সব গণতান্ত্রিক দলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করবেন বলে বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে সব মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মুক্তিসহ অন্যান্য রাজনীতি, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক নেতাদের মুক্তি দাবি জানানো হয়।
অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা চেতনায় বিশ্বাসী ও ‘৭২ এর সংবিধানকে রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
(জনতারদেশ/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন






