ওমরাহ পালনে গিয়ে বাবা-মা-দুই বোন হারিয়ে একা ফিরল ফাইজা
দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক :সৌদি আরবের ওমরাহ শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের শিশু ফাইজা আক্তার (১০) বাড়িতে ফিরেছে। বাবা-মা ও দুই বোনকে ছাড়া তাকে বাড়িতে আসতে হয়েছে।
দুর্ঘটনায় ওই চারজনের মৃত্যু হলেও সে এখনও জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। সে বিশ্বাস করে, তার বাবা-মা ও বোনরা বাড়িতে ফিরবে এবং তারা একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করবে।
পরিবারের লোকজনকে সে বলেছে, তার বাবা-মা এবং দুই বোন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফাইজা আরও বলেছে, নতুন জামা পরে তার বাবার সঙ্গে সে ঈদের মেলায় যাবে। সঙ্গে তার দুই বোনও থাকবে। ঈদে তারা অনেক আনন্দ করবে।
পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশে রওনা দেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান।
ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫ দিন জেদ্দা শহরের কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে বাড়িতে ফিরেছেন।
তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনও জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন মারা গেছেন। সে বিশ্বাস করে, তার বাবা-মা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসাধীন আছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসবেন। তারপর সবাই একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করবে। নিহতদের মরদেহ এখনও জেদ্দা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
মরদেহ আনার প্রক্রিয়া চলমান।
মিজানুর রহমান মিজান (৪০) সৌদি প্রবাসী ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে সৌদিতে ওমরাহ করতে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে সৌদির বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার মারা যান। একই গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর (৩০)ও দুর্ঘটনায় মারা যান। দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান ফাইজাসহ দুইজন।
(জনতারদেশ/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন






