পহেলা বৈশাখে মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশে কঠোর হচ্ছে সরকার
দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক :পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের তিন পার্বত্য জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যাতে মায়ানমারসহ বিদেশী নাগরিকরা প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একসঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা একটি কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিকাল ৫টার পর এসব এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও বন্ধ থাকবে।
আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নববর্ষ উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী–র্যাব, পুলিশ, এসবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাংলা নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন দিনভর বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ডের নৌ টহল থাকবে। ইভটিজিং, পকেটমার ও উশৃঙ্খলতা রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। নিরাপত্তার কারণে ফানুস ও আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোনও যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
এছাড়া বড় জনসমাগম-স্থলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রমনা পার্ক এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে। ভিড়ে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্কে একটি ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচার ঠেকাতে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও সিআইডি সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।শুধু রাজধানী নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
(জনতারদেশ/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন






