দেশি পর্যবেক্ষকদের আবেদন ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে
দৈনিক জনতার দেশ ডেস্ক :ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দেশি পর্যবেক্ষকদের কার্ড পেতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বিধি-নিষেধ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ রয়েছে; যা মেনে পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইচ্ছুক স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনের (https://pr.ecs.gov.bd/) ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার কেন্দ্রীয়ভাবে ৭,৯৯৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক ৪৭,৪৫৭ জনসহ সর্বমোট ৫৫,৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে ওই পোর্টালে প্রবেশ করে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
দাখিলকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন করার পর আবেদনকারী পর্যবেক্ষকদের অনলাইন থেকে কার্ড ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এবং সারা দেশের স্থানীয়/আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংক্রান্ত অনলাইন আবেদনসমূহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুমোদন করবেন। এজন্য ইতোমধ্যে (https://pr.ecs.gov.bd/) পোর্টালে রিটার্নিং অফিসারদের জন্য ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের যা মানতে হবে
পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময় অবশ্যই ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকবেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাজে যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়ে মনোযোগী থাকবেন।
পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। যেখানে অবস্থান করলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না, ভোটকেন্দ্রের ভেতর এমন কোনো জায়গায় স্বল্পসময়ের জন্য অবস্থান করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই কোনো পর্যবেক্ষক ভোটদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রত্যেক পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ কাজে স্বার্থের সংঘাত কিংবা অন্য পর্যবেক্ষক সংস্থার পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ সম্পর্কে তার নিয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করবেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি বিধান অনুসরণ করতে হবে পর্যবেক্ষকদের।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না, কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা যাবে না, পর্যবেক্ষণের সময় সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীনতা বা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে এবং এমন কোনো আচরণ প্রদর্শন করা যাবে না, যাতে কোনো পর্যবেক্ষক কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা প্রার্থীর সমর্থক হিসাবে চিহ্নিত হন।
এ ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে পরিচয় বা চিহ্ন বহনকারী কোনো কিছু পরিধান, বহন অথবা প্রদর্শন করা হতে বিরত থাকতে হবে; কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তার এজেন্ট, নির্বাচনের সাথে জড়িত কোনো সংস্থা অথবা ব্যক্তির নিকট হতে কোনো উপহার গ্রহণ বা ক্রয়ের চেষ্টা, সুবিধা গ্রহণ বা গ্রহণে উৎসাহিত করা হতে বিরত থাকতে হবে; নির্বাচন চলাকালীন পর্যবেক্ষকরা মিডিয়ার সামনে এমন কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত বা প্রভাবিত করতে পারে।
(জনতারদেশ/রুপম–আহমেদ/প/ম )
খবর পেতে দৈনিক জনতার দেশ লাইক পেইজে ( LIKE ) দিতে ক্লিক করুন






